ঢাকা: হাইভোল্টেজ আজ ভারতের বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ, পরিষ্কার হয়ে যাবে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশ হবে। একটি কেন্দ্রের (ফলতা) ভোট হবে আগামি ২১ মে।
তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা হলো ২৩৪টি।
কেরল বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা হলো ১৪০টি।
পুদুচেরি বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা হলো ৩৩টি।
এদিকে উত্তর পূর্বের আসাম বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা হলো ১২৬টি।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মুখোমুখি লড়াইয়ে তৃণমূল এবং বিজেপি। মুখোমুখি লড়াই শুধু নয়, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
ভারতের এই রাজ্যে বিজেপির উদযাপন ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। পুরোদমে চলছে বিধানসভা ভোটের গণনা।
১৫৩ আসনে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল এগিয়ে ১০১ আসনে। দিকে দিকে উদযাপন চলছে বিজেপি-র। গেরুয়া আবির মেখে উচ্ছ্বাস বিজেপি কর্মীদের। পদ্মপতাকায় ঢাকছে চারিদিক।
‘বিজয় মিছিল আজ না বের করতে দিতে বললাম জেলাশাসকদের। যাদের অ্যালাও করা হবে থানা থেকে অনুমতি নিয়েই করা হবে। আজকে না হলেই ভাল। আগামী অনুমতি নিতে হবে। কত লোক যাবেন, কোন রুটে যাবেন, সব ঠিক হবে’, বললেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধে সবার নজর এখন পশ্চিমবঙ্গের দুই ভিভিআইপি কেন্দ্র, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের দিকে।
ভোট গণনার কয়েক রাউন্ড পেরোতেই নাটকীয় মোড় নিয়েছে বাংলার রাজনীতি। একদিকে নিজের দুর্গ নন্দীগ্রামে বড়সড় লিড নিয়ে জয়ের পথে এগোচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরেও মমতাকে কড়া টক্কর দিচ্ছেন তিনি।
গণনার শুরু থেকেই নন্দীগ্রামে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের চেয়ে প্রায় ৮ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
আর নন্দীগ্রামের নাড়ি খুব ভালোভাবে চেনেন শুভেন্দু অধিকারী। কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তৃণমূল।
বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বেশি সময় (চৌত্রিশ বছর) গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় থাকা কমিউনিস্ট সরকারকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবার হয়তো হারতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদির বিজেপির কাছে।
মমতার এই পরাজয়ের মূল কারণ কী হতে পারে? কারণ অনেক আছে। মূল কারণ কী বলে মনে হয়? মূল কারণ হিন্দু বিরোধিতা।
ভারতে যে কয়টা রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে- পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, পন্ডিচেরি আর আসাম- এগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল নিয়ে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল ভারত তো বটেই বাংলাদেশেরও।
প্রাথমিক প্রবণতা যেটা দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে বিজেপিই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে। তৃণমূল অনেক সিট হারাচ্ছে বিজেপির কাছে।
বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে যে কয়টা বিধানসভা আসন, সেগুলি প্রায় সবগুলিই এবার বিজেপির দখলে চলে যাবে বলে মনে হচ্ছে। চলে যাওয়ার কারণ ঐ যে বললাম পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা এবার একজোট হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জঙ্গী প্রীতি টিকবে না আর। হিন্দুরা একত্রিত হয়েছে এবার সেটা বোঝাই গিয়েছিলো।
চব্বিশের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে যে পরিমাণ হিন্দু নির্যাতন হয়েছে, সেটার প্রভাব পড়েছে এইসব আসনে। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
হিন্দুরা দেখেছে বাংলাদেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি। দীপু দাসসহ হাজার হাজার হিন্দুকে কীভাবে খুন করা হয়েছে। ইউনূস আমল ছিলো পৈশাচিক আমল। সব মিলিয়ে এবারের ভোটের ফলাফল যে ভিন্ন হবে তা আঁচ করা গিয়েছিলো।
বিশেষ করে সীমান্তের মানুষ সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছে তৃণমূল জিতলে কী হতে পারে!? মমতার রাজনীতি কোনদিকে সেটা সারা ভারত এবার ভালোরকম বুঝেছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের বুঝতে কিছু সময় লাগলো বলে মনে হয়।
সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলি বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের উত্তাপটা তাড়াতাড়ি টের পায় এবং তার প্রভাব এইসব অঞ্চলে বেশী পড়ে। ২০০১ সালের পর থেকে এই পর্যন্ত এইরকম হিন্দু নির্যাতন বাংলাদেশে আর ঘটেনি।
মমতা ব্যানার্জির মুসলিমপ্রীতি এত হয়েছে যে এইসব এলাকার হিন্দু ভোটাররা মমতার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
ভোট গণনা শেষ হয়নি, অর্ধেকও হয়নি এখনো। গাণিতিকভাবে এখনো ফলাফল অনির্ধারিত এবং এখনকার যে প্রাথমিক প্রবণতা সেটা এখনো বদলে যেতে পারে।
তবে সেরকম খুব একটা হয়না- ফলাফল মোটামুটি এটাই থাকবে সম্ভবত। পুরো ফলাফল আসুক, হিসেবটা একটু মিলিয়ে দেখবেন।
আরো একটি বিষয় কিন্তু খুব লক্ষ্যণীয়। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল নিয়ে। ইতিমধ্যে উগ্রবাদী মুসলমানরা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে, বিজেপিকে গালাগাল দেয়া শুরু করেছে। অর্থাৎ বিজেপি যদি জেতে, সেটা যেন বিজেপির দোষ!? তারা এটাই বলতে চাইছে!
