ঢাকা: মৃত্যু না হত্যা!? ইউনুস সরকার কি হাম ও উপসর্গে ৫০০ শিশুর মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে? এটা তো সরকারি হিসাব!বেসরকারিভাবে তো আরো মারা গিয়েছে। সেসবের হিসেব নেই।

চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুতে বাংলাদেশে উত্তরোত্তর আতঙ্ক বাড়ছে। দু’মাসের মধ্যে হাম ভয়াবহ আকার ধারণ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা।

দেশের চিকিৎসক সংগঠন ‘ডক্টরস ফর হেল্‌থ অ্যন্ড এনভায়রনমেন্ট’ এই পরিস্থিতির জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকেই দায়ী করছেন।

জঙ্গী ইউনূসের সরকার টিকাকরণের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দিতে চায়নি। মব মাস্টার শুধু নিজের পকেট ভর্তি করেছে।

বাংলাদেশে সাধারণত ৯ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুরা হামে আক্রান্ত হয়। সঠিক সময়ে সঠিক টিকা নেওয়া থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। আক্রান্ত হলেও মারাত্মক আকার ধারণ করে না।

চিকিৎসক ফারুকীর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো বন্ধ করে দিয়েছিল। আগের সরকারের সময় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুদের ছ’মাস অন্তর ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এই কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে হামের কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

চিকিৎসকসহ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং অভিজ্ঞজনরা বলছেন, ইউনুস সরকারের গাফিলতিই এই শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ী। তারা এ দায় এড়াতে পারেনা।

শক্তিশালী সরকারি নেতৃত্ব, তথ্যভিত্তিক কৌশল, কমিউনিটির আস্থা, ইউনিসেফসহ অংশীদারদের সমন্বিত সহায়তার ফলে বাংলাদেশ গণটিকাদান দ্রুত সম্প্রসারণ করে প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে পেরেছিলো।

কিন্তু তা ধ্বংস করেছে ইউনূস।

বিগত সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত ৪২ হাজার কোটি টাকা পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঠাণ্ডা মাথায় লোপাট করে হামের টিকা ক্রয় না করে আজকের এই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি এবং শত শত শিশু মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদেরকে আইনের আওতায় কবে আনা হবে?

টিকাদানের ক্ষেত্রে সফল হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশে হামে এত সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঘটনা নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন অবধি দেশে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪৮৮। ২০২৬ সালে বিশ্বে এটি হামে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

ভাবুন দেশে হামের অবস্থা।

এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৩ শিশুর এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ৪০৫ জন।

হাম ও উপসর্গে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে সুদানে। সেখানে মারা গেছে ৩৭১ জন। অথচ মার্চ পর্যন্ত হাম আক্রান্তের সংখ্যায় বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে ছিল সুদান।

সংশ্লিষ্ট দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুতে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে আছে পাকিস্তান। দেশটিতে হামে ৭১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

নতুন প্রজন্ম যে হারিয়ে যাচ্ছে এর দায় কী এড়িয়ে যেতে পারে তারেকের সরকারও?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *