ঢাকা: মাগুরার আছিয়া থেকে ঢাকার রামিসা…তারপর কে? আমার আপনার আমাদের মতোই কারো সন্তান!
রামিসার বাবার আর্তনাদ দেখে দম বন্ধ হয়ে আসছে! মেয়ে সন্তানের মা বাবারা আর্তনাদ করছেন, তাঁরা বলছেন- ‘আমি আমার সন্তানকে কোথায় লুকিয়ে রাখলে একটু নিরাপত্তা পাবো বলতে পারেন? ভয়ানক একটা ট্রমার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি’!
তাঁরা বলছেন, ‘রাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি… আমাদের সন্তানদের একটু নিরাপত্তা দিন’!
দ্বিতীয় শ্রেণীর বাচ্চাটিকে শেষ করে ফেললো ধর্ষক। সে জামাতের এবং হাদির সাপোর্টার বলে জানা গিয়েছে।
রাজধানীর পল্লবীতে নিহত দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারের বাড়িতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ৯টা ৫১ মিনিট থেকে ১০টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত তিনি শিশু রামিসার বাসায় অবস্থান করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দেশের জনগণের খারাপ সময় প্রধানমন্ত্রী, সরকার পাশে থাকবে এটাই উচিৎ। কিন্তু তার আগে রাষ্ট্রের ব্যবস্থা ঠিক করুন। তা নাহলে ধর্ষণ হতেই থাকবে , আর আপনিও বাড়ি বাড়ি যেতে থাকবেন।
লেখক তসলিমা নাসরিন প্রশ্ন করেন, “রামিসার বাসায় যাচ্ছেন কেন? কারণ রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে মানুষ ক্ষুব্ধ? কিন্তু মানুষ তো আরও শত শত ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করছে। তাহলে কজনের বাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী?
সবার বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গেলে তো আর অফিস করা হবে না—সারা দেশেই শুধু ছুটে বেড়াতে হবে”!
তসলিমা বলেন, “আমি তো মনে করি, যদি সত্যিই সহমর্মিতা দেখাতে চান, তাহলে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার প্রতিটি শিশুর বাড়িতেই যাওয়া উচিত।
আজ ঢাকা, কাল বগুড়া, পরশু চট্টগ্রাম, তারপর সিলেট, তারপর ঝিনাইদহ। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে একসময় সারা বাংলাদেশই দেখা হয়ে যাবে—দেখা হয়ে যাবে, এই দেশে শিশুরা কতটা অনিরাপদ, কারণ এই দেশে পুরুষেরা ভয়ংকররকম বর্বর এবং হিংস্র”।
প্রধানমন্ত্রী রহমান রামিসার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।
