ব্রাহ্মণবাড়িয়া: এখন রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে লেগেছে মোল্লা সমাজ। কারণ তিনি কন্ঠ উঁচু করে প্রতিবাদ করেছেন। এখন তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনী স্থগিতের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কওমি ঐক্য পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অথচ ধর্ষণ নিয়ে, সমাজের অন্যায় নিয়ে, হত্যা নিয়ে তাদের কথা বলতে শুনবেন না।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তসলিমা নাসরিন।
তিনি লেখেন, “প্রচুর জিহাদি রুমিন ফারহানাকে ‘তসলিমা নাসরিন’ বলে গালি দিচ্ছে। রুমিন মৌলবাদীদের নিকৃষ্ট কর্মের সমালোচনা করেছেন, সুতরাং রুমিন ফারহানা ‘তসলিমা নাসরিন’।
কারণ তসলিমাও মোল্লা তন্ত্রের বিরোধিতাকারী। এবং সমাজকে পুরুষতান্ত্রিকমুক্ত করার প্রয়াস তিনি চালিয়েছেন এবং এখনো কাজ করে চলেছেন।আর তা জেহাদি গোষ্ঠীর চোখে সয় না।
তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘এই নারীবিদ্বেষী ধর্মব্যবসায়ী বদমাশগুলো কোনও সাহসী মেয়ে দেখলেই, কোনও মেয়ে সত্য বলতে দ্বিধা না করলেই, কোনও মেয়ে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হলেই, মৌলবাদবিরোধী হলেই, ইতর গোষ্ঠীর ফতোয়া না মানলেই গত চার দশক তাকে ‘তসলিমা’ বলে ডেকেছে, এখনও ডাকছে।
রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ করার বিরুদ্ধে হেফাজতিদের চ্যালেঞ্জ করেছেন, তাই হেফাজতিরা মিছিল করছে তাঁর বিরুদ্ধে। রুমিন নাকি ধর্ম অবমাননা করেছেন।
আমার বিরুদ্ধে নব্বই দশকের শুরুতে কী হয়েছিল তার অতি সামান্য এখন আঁচ করতে পারবেন রুমিন। রুমিন সাহসী, একই সঙ্গে রাজনীতিক এবং সংসদ সদস্য, অবশ্যই পাওয়ারফুল। তিনি লড়তে পারবেন। তার সাপোর্ট গ্রুপ আছে দেশে।
আমার বিরুদ্ধে কয়েক লক্ষ বদমাশ মিছিল করতো, আর আমি ছিলাম একা, এবং পাওয়ারলেস। আমার পাশে কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না, সংগঠন ছিল না, সংস্থা ছিল না, সাপোর্ট গ্রুপ ছিল না। সে কারণে সহজেই আমাকে জামাতপন্থী বিএনপি সরকার চিরকালের জন্য নির্বাসনদণ্ড দিতে পেরেছিল।
আশা করছি এই নারীবিদ্বেষী, শিশুধর্ষক, ধর্মব্যবসায়ী, জিহাদিদের বিরুদ্ধে রুমিন ফারহানা ‘আপসহীন যুদ্ধ’ চালিয়ে যাবেন।”
এর আগে ১ জুন রাতে উক্ত সংগঠনটির জরুরি বৈঠক শেষে দেয়া এক বিবৃতিতে নেতারা দাবি করেন, মানববন্ধনে দেয়া বক্তব্যে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও আজানের মতো ইসলামের পবিত্র বিষয়কে হারমোনিয়াম, বাদ্যযন্ত্র ও বাউল গানের সাথে একই প্রসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
কওমি ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী একজন সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্য জনমনে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে। তারা সবাকে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
